বিল্ডিং কোড ও মহাপরিকল্পনা অনুসরণ না করলে নগরে ভূমিকম্প মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে: আইপিডি

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশের অধিকাংশ শহর, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম, ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবেলায় একেবারেই অপ্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সম্প্রতি মিয়ানমারে সংঘটিত ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আইপিডি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের নগরগুলোতে বিল্ডিং কোড, মহাপরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবহার জোনিং না মানার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ভূমিকম্প ঝুঁকি ও নগর পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ

আইপিডি জানায়, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক ছোট ভূমিকম্প হয়েছে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো কার্যকর কোনো প্রস্তুতি নেয়নি। বিশেষ করে, দেশের পরিকল্পিত নগরায়ন, টেকসই আবাসন ও ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

সংস্থাটি জানায়, ঢাকা মহানগরীতে যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান রক্ষায় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্ক রক্ষার দাবিতে ১০০ দিনব্যাপী সামাজিক আন্দোলন চললেও সরকার এ বিষয়ে নিরব রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ ও বিধিমালা সংশোধনের ঝুঁকি

আইপিডি অভিযোগ করে যে, রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু আবাসন ব্যবসায়ীর যোগসাজশে অনুমোদনহীন ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে মহাপরিকল্পনা সংশোধনের মাধ্যমে এসব অবৈধ নির্মাণকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করতেও সরকার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।

আইপিডির সুপারিশ

ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে আইপিডি ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেছে:

  1. নগরে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা কমিশন গঠন।
  2. বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) গঠন।
  3. মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনায় নিয়ে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন।
  4. ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ভবনের শক্তিবৃদ্ধি বা পুনর্নির্মাণ।
  5. ভূমিকম্প মোকাবেলায় এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণ।
  6. সরু রাস্তার পাশে ও জলাশয়ের ওপর বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন না দেওয়া।
  7. দুর্যোগের সময় আশ্রয়ের জন্য পার্ক, উদ্যান, খেলার মাঠ সংরক্ষণ।
  8. মহাপরিকল্পনা ও ইমারত বিধিমালা প্রণয়নে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া।
  9. নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার তদারকি ক্ষমতা বৃদ্ধি।
  10. রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা।

আইপিডির মতে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও দেশের নগরগুলোতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

RSS
Follow by Email