বিয়ানীবাজার পৌরসভার ময়লা ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নাগরিকরা

নগর দর্পণ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ানীবাজার পৌরসভায় ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই, ফলে প্রতিদিনের বর্জ্য সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত বিয়ানীবাজারে কোনো স্থায়ী ময়লা ফেলার স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে—কখনো রাস্তার পাশে, কখনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খোলা মাঠে। এসব স্থানে ময়লার স্তূপের কারণে পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এবং দাসগ্রামের আরেকটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এর ফলে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। অতীতে মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম ও পৌরশহরের লাসাইতলায় ময়লা ফেলা হলেও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে সেসব স্থান পরিবর্তন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সরওয়ার হোসেন বলেন, “প্রাইমারি স্কুলের সামনে ময়লা ফেলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। দুর্গন্ধে আমাদের চলাফেরা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।”

একই অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হাসান বলেন, “বিয়ানীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন ময়লা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার দায়িত্বশীলদের উচিত পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। আমরা দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাই।”

সংকট কাটাতে কার্যকর উদ্যোগ কই?

বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ময়লা অপসারণের জন্য মাত্র ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভ্যানচালক ও ট্রাকচালক রয়েছেন। অপ্রতুল জনবল দিয়ে পুরো পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত জায়গা ক্রয়ের জন্য ৪.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বাজেটে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নিকুঞ্জ ব্যানার্জি বলেন, “বিয়ানীবাজার ভবিষ্যতে একটি বড় শহরে পরিণত হবে। তাই পরিকল্পিতভাবে ময়লা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেছেন, পরিকল্পিত ময়লা ব্যবস্থাপনা ছাড়া পৌরসভার নাগরিক জীবন স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব নয়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

RSS
Follow by Email