বিসিক জামদানি ও কারুপণ্য মেলা–২০২৬ শুভ উদ্বোধন

নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক জামদানি ও কারুপণ্য মেলা–২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন এবং “Enhancing International Competitiveness of GI Jamdani through Branding, Quality Assurance and Digital Marketing” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ মেলা ও সেমিনারের উদ্বোধন করেন।
বিসিক চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিসিকের বহুমাত্রিক কার্যক্রম ও দেশের শিল্পায়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিসিক শিল্পনগরী ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে প্রায় ৮.৫ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। বিসিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্প খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্য বিক্রি হয় এবং বিসিক শিল্পনগরীগুলো থেকে সরকার প্রায় ৪.৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন করে।
তিনি আরও বলেন, জিআই পণ্য হিসেবে জামদানি বিসিকের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। জামদানির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিজাইন উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সম্প্রসারণে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষ কারিগর তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে এই শিল্পে আগ্রহী করে তুলতেও বিসিক ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চন্দ্রশেখর সাহা। তিনি জামদানির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, ব্র্যান্ডিং, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশি ফ্যাশন মডেল ও নকশাকার বিবি রাসেল বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা তাঁতিদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। তাঁত বুননকারী একজন শিল্পী; তাঁর শিল্পের মর্যাদা দিতে হবে। তিনি বলেন, ভারতে প্রান্তিক তাঁতিদের সর্বোচ্চ পুরস্কার প্রদান করা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে এখনো সেইভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। পণ্যের মান উন্নয়ন এবং তাঁতিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাংবাদিক শেখ সাইফুর রহমান জামদানি নিয়ে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, জামদানির প্রায় ২০০টির বেশি ঐতিহ্যবাহী নকশা রয়েছে, যা সংরক্ষণ এবং পেটেন্ট করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, জামদানি নিয়ে কাজ করতে ডিজাইনারদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি। পণ্যের দাম নির্ধারণ ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এছাড়া তাঁতিদের জন্য কাঁচামাল সহজলভ্য করা গেলে তাদের ঋণের প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যাবে। জামদানির মান নির্ধারণের জন্য আলাদা স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন সেল গঠনেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, দেশের তাঁতশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে বিবি রাসেলের মতো গুণী ব্যক্তিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণ, উন্নয়ন, ডিজিটাল বিপণন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে আমাদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁতিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, এই সেমিনারের মাধ্যমে শুধু জামদানি নয়, দেশের সামগ্রিক তাঁতশিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি জানান, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, বাজারজাতকরণ, মার্কেটিং, পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

RSS
Follow by Email